Breaking

Post Top Ad

Thursday, October 3, 2019

গল্প-- রক্তের বন্ধন, পর্ব-- ০৪

#রক্তের_বন্ধন

১ম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 

২য় পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 


৩য় পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 



পর্বঃ০৪


এদিকে একটা মহা সমস্যা রাইসা বেশি কাঁদলে, কথার মতোই সেন্সলেন্স হয়ে যায়। উপায় না পেয়ে, মন চাচ্ছিল না, তাও যখন সাথির মুখে খাবার তুলে দিতে যায় তখনি কথা এসে দেখে ফেলে।

- কথার চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। দেখে বুঝা যাচ্ছে, শরীরটা রাগে ফেঁটে যাচ্ছে।  খুব কষ্ট হচ্ছে,  কেন এতো কষ্ট হচ্ছে।  কথা ইচ্ছে করেই প্লেটটা ফেলে দিয়ে এতোগুলা মানুষের সামনে যা করলো তা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।  সাথি ভয় পেয়ে গেল।  কারণ কথা সাথিকে ডেকে নিয়ে গেল তার কাছে।

- আমি মনে মনে ভাবছি একটা থাপ্পর তো অন্তত খাবেই সাথি।  আমার জন্য মেয়েটা ফেসে গেল!

- কথা সাথিকে ডেকে নিয়ে বললো" আজ তোমাদের সাথে আমিও খাবো।  ( কথাটা বলে হেসে দিল)

- কথার দিকে তাকাতেই চমকে গেলাম।  হাসিমাখা মুখটার পিছনেও কালো ছায়া দেখতে  পেলাম।  ক্ষানিক করুনার দৃষ্টিতে কথা আমার দিকে চেয়ে থেকে চলে গেল।

-খাওয়া শেষ করে,  ডিস্কে বসে অফিসের একটা জরুরি ফাইলের কাজ করছি।  এমন সময় পিয়ন বললো ' স্যার আপনাকে মাডাম ডাকছে!

- পিয়নের কথা শুনে ম্যাডামের রুমে গিয়ে, দরজা নর্ক করতেই বললো আসেন।

- আমি রুমে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। ম্যাডাম আমার দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

- মিঃ রাজ আপনাকে যে রুপপুর প্রজেক্টের ফাইলটা দেওয়া হয়েছে।  সেটা কি কমপ্লিট করছেন?

- ম্যাডাম আরো তিনদিন লাগবে,  কাজগুলো ঠিকভাবে শেষ করতে।
- what!  কি বলছেন আপনি? এই জন্য আপনাকে ওতো টাকা বেতন দেওয়া হয়?

- ম্যাডাম  দুইদিনে কোন মানুষের পক্ষেই  এতোবড় প্রজেক্ট  এর কাছ করা সম্ভব নয়।

- ঠাস!  ঠাস!  লজ্জা করে না? মুখে মুখে তক্ক করতে।  আমি কিছুই শুনতে চাইনা।  আমি কাজ চাই।  লাঞ্চের সময় তো ভালোই দেখলাম।  একদম রেস্টুরেন্ট বানিয়ে  ফেলছিলেন।

- ম্যাডামের কথা শুনে আর বুঝতে বাকি রইলো না দুপুরে সাথির সাথে লাঞ্চ করার জন্যই কথা আমার গায়ে হাত তুলল।

- কি হলে, ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন কেন? আপনার নষ্টামির কথা শুনে আপনার একটুয়ো লজ্জা লাগছে না।  আমার জীবন তো আপনি নষ্ট করেছেন। এখন সে মেয়েটার জীবনও নষ্ট করতে চাচ্ছেন? এরপর যদি এমন কিছু দেখি তাহলে আপনাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে বাধ্য হবো।

-ম্যাডাম আমার দু'লাখ টাকা লাগবে।  যদি দিতেন উপকার হতো।

- কি যেন ভেবে দু'লাখ টাকার একটা চেক লিখে দিল!

- আমি ম্যাডামের রুম থেকে বের হয়ে,  ডেস্কে বসে আছি।  চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে।  রাইসা আমার  কুলে চড়ে চোখের পানি মুছে দিচ্ছে।  আর বলছে " বাবাই তুমি কাঁদতেছো কেন? কে বকা দিয়েছো?বলো আমি তাকে বকা দিয়ে আসবো। কেঁদোনা বাবাই তুমি কাঁদলে যে আমার খুব কষ্ট হয়।

- মেয়েটাকে  কিভাবে বলি, আর কেউ নয় আমাকে মেরেছে তোর জন্মদাত্রী মা।

-বাবা বলো না কেন,  কে তোমায় বকা দিয়েছে। বাবাই ওই মম আন্টি কি তোমায় বকা দিয়েছে?
- না মা,  আর মম আন্টি কে কখনো মম ডাকবে না।  শুধু আন্টি ডাকবে।

- বাবাই আমি বুঝেছি, ওই পঁচা আন্টি তোমাকে বকা দিয়েছে।  দাঁড়াও আমি আসছি।

- রাইসা দৌড়ে কথা ম্যাডামের ডেস্কে চলে গেল।

- রাইসা গিয়ে দেখে,  কথা কার যেন  সাথে কথা বলছে।  তাই লোকটাকে বললো" আপনি চলে যান,  আমি আন্টির সাথে একা কথা বলবো।

- এদিকে কথা বিদেশী ভাইয়ারের সাথে কথা বলছে।  পিয়ন ডেকে রাইসাকে সরিয়ে নিতে বললো।  পিয়ন রাইসাকে নিয়ে এটা সেটা বলছে।  পিয়ন চাচ্চু বলো তো, তোমার বাবাই কে কেউ যদি মারে।  তুমি তাকে কি বকা দিবে না?

- হুমম বকা দিবো তো? আচ্ছা করে বকা দিবো!

- কেউ যদি তোমায় আকটে রাখে তুমি কি করবা?
- তার কাছ থেকে পালিয়ে গিয়ে আচ্ছা করে বকা দিয়ে আসবো যে আমার বাবাইকে বকা দিয়েছে।

- তাহলে চাচ্চু তোমার সাথে আমি খেলি কেমন?

- কেমন খেলা মামনি?

- আপনি চোখ বন্ধ করেন,  আমি এই রুমে লুকাবো।  আর আপনি যদি চোখ বন্ধ না করেন, আল্লাহ্ আপনাকে পাপ দিবে।

- আচ্ছা মামনি চোখ বন্ধ করলাম।

- পিয়ন চোখ বন্ধ করতেই রাইসা এক দৌড়ে ম্যাডামের রুমে এসে পড়ে।  রুমে এসেই দেখে যে কথা ম্যাডাম তার ডেস্কে বসে আছে। লোকটা চলে গেছে।  কথা ম্যাডডামের মন খারাপ।  কারণ তিন কোটি টাকার প্রজেক্টটা হাত ছাড়া হয়ে গেল। তারই অসাবধানতার জন্য।  রাইসা কথা বললো " এই যে আন্টি তুমি নাকি বাবাই কে মেরেছ? আমার বাবাইকে কেন মেরেছ?

-কথা প্রজেক্টটা হাত ছাড়া হওয়ার জন্য রাগে শরীরটা গিজগিজ করছে।  এমন সময় পিচ্চিটা আসছে  জ্বালাতে।  তাই রাগ করে বলে, " মারছি তো বেশ করেছি, ওইরকম চরিএহীন লোকটাকে মারতেই হয়।  প্রয়োজন পড়লে খুন ও করতে পারি। "

- তুমি পঁচা, আল্লাহ্ তোমাকে পাপ দিবো,  তোমার সাথে কথা নাই। তুমিও ও একটা চরিএহীন।

- কথা এমন কথা শুনে রাগ চেক না দিতে পেয়ে,  রাইসার গালে চড় বসিয়ে দেয়।  চড়টা এতোই জোরে ছিল রাইসা টাস করে ফ্ললে পড়ে যায়। রাইসার কান্না শুনে,  দৌড়ে ম্যাডামের রুমে এসে দেখি, কলিজার টুকরাটা মাটিতে পড়ে আছে।  ঠোঁট কেটে রক্ত পরছে। কথা অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রাইসাকে তাড়াতাড়ি কুলে নিতেই রক্তমাখা মুখ নিয়ে রাইসা বলে" বাবাই তোমায় না ওই মহিলামহিলাটা মেরেছে।  তাই আমিও বকা দিয়েছি,  জানো বাবাই তোমাকে চরিএহীন বলেছে।  আমিও বলে দিয়েছি আপনি একটা চরিএহীন।  এই জন্য আমাকে চড় মেরেছে। এই দেখ বাবাই আমার রক্ত বের হচ্ছে।  আমি কষ্ট পায়নি বাবাই,  কিন্তু তোমাকে যখন কাঁদতে দেখেছি তখন না অনেক কষ্ট পেয়েছি।  আচ্ছা! বাবাই চরিএহীন কী?

- না মা চরিএহীন মানে খুব ভালো।  রাইসার মুখে  যে রক্ত দেখা যাচ্ছে, সেটা কোন রক্ত না সেটা আমার কলিজা ফাঁটা রক্ত। কলিজাটা ফেঁটে যাচ্ছে। মা হয়ে নিজের সন্তানকে মারলো তার একটা বার হাত ও কাঁপলো না।

- ম্যাডাম আজ যদি, আপনার মেয়ে থাকতো রাইসার জায়গায়।  পারতেন এমন ভাবে চড় মারতে? আমি কাকে কি বলছি, মেয়ের আদর আপনি কি বুঝবেন।  আপনি তো সন্তান জন্ম দেওয়ার আগেই তাকে মেরে ফেলেছেন।
আচ্ছা ম্যাডাম আপনার গর্ভেই সন্তানটাই যদি আজকের রাইসা হয়?

- তুতুমি কি বলছো? রাইসা আমার মেয়ে? কান্না করে দিয়ে।

- রাইসা আপনার নয় রাইসা আমার মেয়ে।  রাইসার মা জানতে পারলে আর কখনো অফিসে আনতে দিবেনা কথা কে।

- বাবা আমার না খুব পেট ব্যথা করছে।  রাইসার কথা শুনে বুকটা ধর্ক করে ওঠলো।

- রাইসাকে নিয়ে সরাসরি হসপিটালে চলে গেলাম।

- ম্যাডাম আপনি মাসুম বাচ্চাটাকে মারতে পারলেন? ( সাথি)

- কথা কিছু না বলে অফিস থেকে সরাসরি বাড়িতে চলে আসলো!

- বাড়িতে আসতেই কেন জানি বারবার রাইসার রক্তমাথা মুখটা ভেসে উঠতে লাগল।  নাহ্ কাজটা একদম ঠিক করিনি! আচ্ছা রাজ যে বললো, রাইসা আমার মেয়ে!  এমনই কিছু একটা বলেছে।  হঠাৎ কথার মনে হলো যখন কথা গর্ভবতী  রাজ কথার মাথাটা বুকে নিয়ে বললো " জানো কথা, আমাদের মেয়ে হলে নাম রাখবো, রাইসা!

- কথাটা মনে পড়তেই কথা চমকে উঠলো!  তাহলে কি রাইসা আমার মেয়ে।

চলবে """"""""""

বিঃদ্রঃ ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।


৫ম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 


৬ষ্ঠ পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 


৭ম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 


৮ম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 


নবম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 


দশম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 


১১তম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 


১২ তম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 


১৩ তম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 


১৪ তম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 


১৫ তম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 


১৬তম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 


১৭ তম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 


১৮তম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 


১৯তম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন


২০পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 


২১তম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন


২২তম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 


২৩তম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন


২৪তম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 


২৫তম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন


২৬তম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন


২৭তম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 


২৮তম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন


২৯তম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন 


৩০তম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন


৩১তম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন


৩২তম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন


No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Your Ad Spot

Pages