এই ওয়েবসাইট / ডোমেইনটি বিক্রি করা হবে, যোগাযোগ করুন ০১৭২৯৭২৯৯৫৮ ...

Breaking

Post Top Ad

Saturday, October 5, 2019

গল্প-- অসমাপ্ত ভালোবাসা, পর্ব -০২


"♥♥♥অসমাপ্ত ভালবাসা♥♥♥

১ম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন

পর্বঃ২য় এবং শেষ



" তোর মতো ছোটলোক এর কিভাবে সাহস হয়,  রাফির শার্টের কলার ধরার। আর ভালবাসা,কিসের ভালবাসা?তোর মতো ছোটলোকের সারা মাসের ইনকামে আমার একদিনের হাত খরচ হবে না। নেক্সট টাইমে যদি তোকে আমার সামনে দেখি আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না।

.

আমার দিকে তাকিয়ে সবাই হাসছে। অধরার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি।  এই মায়াবী মুখটা কত প্রতিজ্ঞা করেছিল, আজ সবার সামনে এভাবে অপমান করল।  ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে সোজা বাসার দিকে রওয়ানা দিলাম।  পিছন থেকে কে যেন ডাকছে,  পিছন তাকাতেই দেখি একটা বাইক আসছে,  কিছু বুঝে উঠার আগেই পিচঢালা রাস্তায় পড়ে গেলাম।  মাথাটা ফেটে রক্ত পড়ছে। কথা দৌড়ে এসে মাথাটা বুকে জড়িয়ে নিয়ে কাঁদছে। তারপর চোখটা নিজের অজান্তেই বন্ধ হয়ে এলো।

.

চোখ খুলে দেখি মাথাটা বেন্ডেজ করা।  বুকটা খুব ভারী লাগছে।  চেয়েই দেখি কথা বুকে শুয়ে আছে। এই কথা কি করছো, তুমি এখানে শুয়ে আছো কেন?

কথা আমার কথা শুনে বুক থেকে মাথাটা উঠিয়ে,  লজ্জামাখা মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

.

হঠাৎ,  নার্স এসে বলল" ম্যাডাম আপনাকে না বলেছিলাম টেনসন না করতে।  মিষ্টার রাজ আপনি সত্যিই অনেক লাকি এমন একটা বউ পেয়েছেন। যে তিনটা দিন আপনার পাশ থেকে সরেনি।  নামায পড়ে কেঁদেছে।

.
কিছুক্ষণ পর ডাক্তার এসে বললো" মিঃ রাজ আপনি আপাদত বিপদ মুক্ত।  কিছু ওষধ লিখে দিচ্ছি,  খেয়ে নিবেন।

.

ডাক্তার চলে গেলে বললাম, তুই বাসায় যাসনি কেন? আর নার্সকে কেন বলছিস তুই আমার স্ত্রী!

.

বলেছি তো বেশ করেছি, দরজ্জালি নার্স তোর কাছে আমাকে থাকতে দেয় না তাই। এদিকে মাসখানেক থাকার পর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যায়।
 একমাসের মাঝেও একটিবারো অধরাকে দেখিনি।  রুমে বসে বসে,  অধরার ছবিটা দেখছি।  হঠাৎ কথার আগমন নীল শাড়ি পড়ে।

.

কি ব্যাপার, পরী সেজে কোথায় যাচ্ছিস?

.
আমার হৃদয়ের রাজকুমারের  কাছে।
তাই বুঝি, তোর রাজকুমারকে কখনোতো বলিস নি?

.

আমার রাজকুমার টাই তুই।

মানে কি বলছিস?

.
রাজ তুকে বলছি না,  আমি একজনকে ভালবাসি, যাকে নিয়ে আমার স্বপ্নের পৃথিবী সাজিয়েছি।তাঁর ছবিটা ভালবাসার রংতুলি দিয়ে এঁকেছি,  সেই মানুষটা অন্য কেউ নয় তুই।  সত্যি তোকে বড্ড বেশি ভালোবাসি।  আমি সব সহ্য করতে পারি, তোর কষ্ট নয়।  আমি জানি তোর বুকে আমার ঠাঁয় হবে না, কারণ অধরা প্রতারণা করলেও, তুমি তাকে ভুলতে পারোনি।  আমাকে কি তোমার ভালবাসা ভিক্ষা দিবে,  দিবে তোমার পায়ের নিচে একটু জায়গা।  কথা হাঁটু গেড়ে একদমে কথাগুলো বলে ফেলল, চোখে চিকচিক করছে পানি।  কি করবো কিছু ভাবতে পারছি না।  কথাকে ফিরিয়ে দিতে চেয়েও পারলাম না।  মনে মনে স্থির করে নিলাম কথাকে এ সপ্তাহে বিয়ে করবো।

.

কথাকে বুকে জড়িয়ে নিলাম।  মা-বাবাকে বিয়ের কথা বললে, তারা অমত করেনি।  আগে থেকেই কথাকে তাঁদের পছন্দ ছিলো।

.
দেখতে দেখতে বিয়েটা হয়ে গেল।  বিয়েতে অধরাকেও কথা দাওয়াত করেছিল।  আমি প্রথমে না করলেও পরে জিদের কারণে আর না করেনি।  অধরা এসেছিল,  তবে আগের চেয়ে অনেক শুকিয়ে গেছে।  ছলছল চোখে, তাকিয়ে ছিল আমার দিকে। বুকটা ফেটে যাচ্ছিল।  পাশে রাফিকে দেখে আরো বেশি কষ্ট হচ্ছিল।

.
ওরা দুজন কিছুক্ষণ থেকেই চলে গেছে।

.

এদিকে বিয়ের সপ্তাহ খানেক পর,  রুমে বসে,  গল্প পড়ছিলাম।  দরজায় কে যেন বারবার লক করছে, দরজা খুলতেই দেখি রাফি দাঁড়িয়ে আছে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও,  বললাম কেন আসছেন?

.

রাজ ভাইয়া কথাটা কিভাবে বলি, ( কান্না জনিত কণ্ঠে)

.

কি হয়েছে বলেন?

.
অধরা আপি মারা গিয়েছে গতরাতে।  আর আপনার জন্য একটা ডাইরি রেখে গেছে।

.

কথাটা শুনে পায়ের তলার মাটি সরে গেল।  বসন্তের আকাশটা কাল বৈশাখী ঝড়ে কেমন যেন উলট -পালট হয়ে গেল।  কেন জানি বুক ফেঁটে কান্না আসছে।  অধরাতো আমার সাথে প্রতারণা করেছে, তবে কেন এতো কষ্ট হচ্ছে। এই রাফি অধরা না তোমার গফ তো,  আপি ডাকছো কেন?

.

ভাইয়া ডাইরিটা পড়ে সব জেনে নিয়েন। আর অধরার জানাজা কাল সকাল ৯.টায়।

.

রাফি চলে গেলে,  ডাইরির প্রথম পাতাটা খুলতেই দেখতে পেলাম,

.
আজ আমি অনেক খুশি, আল্লাহ্ তায়ালার কাছে হাজার হাজার শুকরিয়া। আমার ভালবাসার মানুষ রাজকে পেয়েছি।  আল্লাহ্ আমার মোনাজাত কবুল করেছেন।

.

পরের কয়েক পাতাতে দেখলাম আমাদের দুজনের মাঝে যেসব খুনশুটি হয়েছে সে সব লিখা।  ( হাসি-কান্না গুলো ডাইরির পাতায় ঝলমল করছে)

কয়েক পাতা উল্টাতেই দেখলাম তারিখ মার্ক করে লেখা" আজ আমার জীবনেে স্মরণীয় দিন,  রাজকে প্রতিজ্ঞা করেছি, আমৃত্যু তাকে ভালোবেসে যাবো বেঁচে থাকলে তাকেই বিয়ে করবো!

.

তার পরের কয়েকটা পাতা নীল কালিতে লেখা " কয়েকদিন ধরে মাথাটা প্রচন্ড ব্যাথা করে, রাজকে জানায়নি,  আমি জানি রাজের হৃদপিন্ডটাই আমি ও বড্ড বেশি কষ্ট পাবে।  তাই ওকে না জানিয়ে সিটিস্ক্যান করে যা রির্পোট আসলো, তা আমার সাজানো স্বপ্নগুলো মুহূর্তেই  এলোমেলো করে দিল।  আমার ব্লাড ক্যান্সার,  লাস্ট স্টেজে আছি,  মৃত্যু আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।  ডাক্তার কে বললাম,  আমার যে কন্ডিশন আমি কতদিন বাঁচবো? ডাক্তার বলতে চাচ্ছিল না,
আজ আমার জীবনের, তবুও, জোর করে বলাতে বলল" আমি নাকি সর্বোচ্চ ৫০ কিংবা ৬০ দিন বাঁচতে পারি।  কথাটা শুনে নিজের অজান্তেই চোখের পানি এসে গেল।  আমার জন্য কষ্ট হচ্ছে না,  কষ্ট হচ্ছে রাজের জন্য। বারবার ওর মায়াবি মুখটা ভেসে ওঠছে। রাজ তো আমাকে ছাড়া বাঁচবে না । আমার জন্য ওর জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে।  আমি তো চাই যেন আমার ভালবাসার মানুষটার মুখে হাসি থাকুক। সে সবসময় সুখে থাকুক।

.

সারারাত চিন্তা করে সকালে ভাবলাম রাজের সুখের জন্য নিজের ভালবাসাকে নিজের বুকেই দাফন করবো।  কথা রাজকে পছন্দ করে, তাই কথাকে শপথ করিয়ে বললাম আমি যে অসুস্থ রাজ যেন  জানতে না পারে।  রাজকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য,  মামাতো ভাই রাফিকে বললাম,  আমার প্ল্যানের কথা।  প্রথমে না করলেও,  রাফির পায়ে যখনি ধরতে যাবো তখনি রাজি হয়ে যায়।
আচ্ছা আপু একটা কথা বলি?

হুম বল?

.
তোকে তো রাজ ভাইয়া খারাপ ভাববে?

.
হুমম ভাবুক আমার দেওয়া কষ্টই আমার ভালবাসার মানুষটাকে নতুন করে বাঁচতে শিখাবে।  ওর সুখটাই যে আমার পরম পাওয়া।
সত্যি আমি তোদের ভালবাসার কাছে পৃথিবীর সকল ভালবাসা পরাজিত।

.
রাফি রাজি হলে, রাফিকে বাসায় ঢেকে এনে রাজের আমার বাসায় আসার খবর পেয়ে নোংরামির অভিনয় করি।  কিন্তু আমি ফুলের মতো পবিএ।  রাজের পবিএ ভালবাসা নিয়েই,  শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবো।

.

আজ নিজের কলিজাকে চড় মেরেছি।  কিচেনে এসে আগুনের উপর হাতটা রেখে,  হাতটা পুড়ালাম।  কাজের মেয়ে এসে বাঁধা দিল।  সারারাত রাজের ছবিটা বুকে নিয়ে কাঁদছি।  মরে গেলে তো আর বুকে নিতে পারবো না।

.
আজ আমার কলিজার টুকরার বিয়ে।  আমাকে দাওয়াত করেছে। বর সাজাতে ওকে আজ খুব সুন্দর লাগছে। মন চাচ্ছে দৌড়ে রাজকে জড়িয়ে  ধরে বলি,  ভালবাসি নিজের জীবনের থেকেও বেশি চোখটা ছলছল করছে। আর থাকতে পারছি না,  রাফিকে নিয়ে সোজা হসপিটালে চলে আসি।  ডাক্তাররা আমাকে বাচানোর জন্য ব্যাস্ত।  তারপর আর কিছু মনে নেই।  সপ্তাহ খানেক পরে জ্ঞান ফিরলে, রাফিকে বলি রাজ কেমন আছে?  রাফির কাছ থেকে ডাইরিটা নিয়ে আবারো লিখতে বসলাম। আমি বুঝে গিয়েছি,  আমার সময় শেষ লিখার শক্তি নেই।  তবুও নার্সের কাছ থেকে কলমটা নিয়ে,  ডাইরিতে কলমটা রেখে মহান আল্লাহ্ তায়ালাকে বললাম" হে আল্লাহ্ আমাকে লেখার শক্তি দান করো "

.
প্রিয়,

রাজ, তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছে করছে।  তোমাকে চাইলেও আর দু'চোখ ভরে দেখতে পারবো না।  চোখ দু'টি  বন্ধ হয়ে আসছে।  তোমার কাঁচের ফ্রেমের ছবিটাও ভেঙে গিয়েছে। তোমাকে নিয়ে আমার দেখা স্বপ্নগুলোর মতো।  তোমার ভাঙা ছবিটায় বুকে জড়িয়ে লেখছি।

আমি মারা গেলে,  আমার কানের কাছে এসে বইলো" ভালবাসি তোমাকে " তোমার মুখের এ কথাটাই শুনতে চাই। এই কাঁদছো কেনো? তোমায় না আমি বুকে নিয়েছি।   এই পাগল আমার বুকেও কান্না করতে হয়।

" ভালো থেকো, সন্ধ্যা তারা হয়ে রোজ তোমাকে দেখে নিবো। কখনো আড়াল হতে দিবো না"।

ইতি,

তোমার অধরা!

চিঠিটা পড়তে পড়তর কখন যে চোখের পানিতে চিঠিটা ভিজে গেছে খেয়াল নেই। চিঠিটা পড়ে বুক ফেঁটে কান্না আসছে।  বারবার অধরার মায়াবী মুখখানা ভেসে ওঠছে।

.

এদিকে অধরার লাশটা গোসল দিয়ে রাখা হয়েছে।  লাশের কাছে যেতেই মনে হচ্ছে, কেউ একজন বলছে, তুমি জানো না তুমি কান্না করলে আমি কষ্ট পায়।  আশে পাশে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই।  অধরার লাশের কাছে গিয়ে বললাম ভালবাসি বড্ড বেশি ভালবাসি।

সমাপ্ত.


.

.

2 comments:

Post Top Ad

Your Ad Spot

Pages