এই ওয়েবসাইট / ডোমেইনটি বিক্রি করা হবে, যোগাযোগ করুন ০১৭২৯৭২৯৯৫৮ ...

Breaking

Post Top Ad

Tuesday, October 1, 2019

একজন বাবার গল্প, পর্ব -- ০২ এবং শেষ পর্ব



♥♥একজন_বাবার_গল্প♥
পর্বঃঅন্তিম

১ম পর্বের জন্য এখানে ক্লিক করুন


আমিই মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে অভাগা সন্তান যার মা, ছেলের এতটাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার জন্য মারা যায়!  বুকটা ফেঁটে যাচ্ছে।  কলিজাটা মনে হয় কেউ ছিঁড়ে ফেলেছে।
-দৌড়ে গিয়ে যখনি, মায়ের পা ধরতে যাবো। তখনি বাবা বললো" খবরদার ওই পাপ হাতে আমার হাজেরাকে ছুঁবি না!  তোর মতো ছেলের জন্য আজ তোর মা মারা গিয়েছে।  আর তোর যে মা'কে সারাজীবন কানি মা বলতি। যাকে বন্ধুদের সামনে মা বলে পরিচয় দিতিস না।  অন্ধ বলে,অবজ্ঞা করতিস।  তোউ কি জানিস তোর মা সম্পর্ণ ভালো ছিল।  অন্ধ হয়েছে তোর জন্য।  আজ আমাকে বলতেই হবে।   ছোটবেলা তোর যখন তিন বছর খেলতে গিয়ে তোর এক চোখ নষ্ট হয়ে যায়।  তখন তোর বোকা মা'টাই তোর জন্য চোখ দান করে।  জানিস তোর মা তোর জন্য কত কষ্ট করেছে!  রোজা থাকতাম তোর মা আর আমি যাতে করে একবেলার খাওয়ার টাকা বেঁচে যায়।  মানুষ যখন পাশের বাসায় মাছ, মাংস রান্না করতো।  তার ঘ্রান নাকে আসলে বলতো, রাজের বাবা একদিন আমাদের রাজও মস্তবড় অফিসার হবে। তখন রাজকে বলবো,  গরু মাংস কিনে আনতে,  পেট পুরে খাবো তখন।ধৈর্য ধরো রাজের বাবা,  আমাদের রাজ এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে।  আর জানো আমি না, আবার চোখে দেখতে পারবো।  রাজ ঠিকই আমাকে চিকিৎসা করাবে, যখন জানতে পারবে আমার একচোখ অন্ধ তার জন্য!  কি হলো কাঁদছো কেন।  দেখো ঠিক রাজ আমাদের সুখী করবো।  আমাকে রাজ আর অন্ধধ মহিলা ডাকবে না।  আমাকে মা বলে ডাকবে,  জানো সেদিন না আমি কি যে খুশি হবো।

- বাবার কথাগুলো শুনে চিৎকার দিয়ে কান্না আসছে।  আল্লাহ্ পৃথিবীর মা- বাবাদের তুমি কি এমন মাটি দিয়ে তৈরী করেছো যার জন্য এতোটা কষ্ট দিলেও কষ্ট বুকে চেপে সন্তানের মঙল চায়।  কলিজাটা মা'র জন্য ফেঁটে যাচ্ছে। জীবনে খেয়াল আসে না মা'কে কানি ছাড়া কোন দিন ডাক দিয়েছি। আজ চিৎকার দিয়ে বলতে ইচ্ছে করছে " মা ওমা কথা বলো তুমি! দেখ আমি তোমায় মা বলে ডাকছি।  মাগো ও মা ক্ষমা করে দাও আমায়।"

- এদিকে মা'য়ের মাথাটা বুকে নিয়ে বাবা ছোট্ট বাচ্চার মতো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।
- আমি গিয়ে মায়ের মা' দুটি স্পর্শ করার আগেই বাবা বললো" খবরদার তোর পাপী হাত, আমার স্ত্রীর শরীরে লাগাবি না।  তোর জন্য আজ আমার স্ত্রী দুনিয়া থেকর চলে গেছে।  কথাটা বলে বাবা আর কোন কথা বলছে না।  মাটিতে শুয়ে পড়লো বোকটা ধরে।  তাড়াতাড়ি ডাক্তারকে ফোন করলাম।  ডাক্তার এসে বললো " বাবা আর কোন দিন কথা বলবে না" আমি একটা গগণ বিদায়ী চিৎকার দিয়ে মাটিতে পড়ে যায়।

দুই'হাতে মা-বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগি" ও বাবা,  কথা বলো, মা তোমাদের রাজকে আর কুলে নিবা না।  আমি তোমাদের খোকা রাজ হয়েই থাকতে চায়।  মহল্লায় সবাই সান্ত্বনা দিচ্ছে।  কি ভাবে নিজেকে সান্ত্বনা  দিবো। আমার জন্যই আজ মা-বাবা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল।  যদি মানুষকে বুকটা চিঁড়ে দেখাতে পারতাম তাহলে, মানুষ দেখতে পারতো হয়তো আমার কলিজাটা হারিয়ে গেছে। কেউ ছিঁড়ে নিয়ে গেছে আমার কলিজাটা।  নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।  আসরের পর বাবা - আর মায়ের জানাযা হবে। কথাকে ফোন দিলাম।  ফোনটা দু'বার রিং হতেই ফোনটা অফ করে দিল।  আর ফোন না দিয়ে ফোনটা একটা আচার মেরে ভেঙে ফেললাম।  বাবার লাশটা কাঁধে করে সিয়ে যাচ্ছি গ্রামের বন্ধুদের সাথে। ছোটবেলা বাবা যেভাবে কাঁদে করে নিয়ে নদী পার করে দিতো ঠিক সেভাবেই নিয়ে যাচ্ছি।  পা দুটি যেন মাটির নিচে চলে গেছে।  বাবা-মাকে কবর দিয়ে।  শ্বশুর বাড়ি তিনদিন পরে যায়।  গিয়ে দেখি,  কথা গাল ফুলিয়ে বসে আছে।

- তুমি কয় ছিলা? তুমি জানতে না আমার জন্মদিন ছিল।  আমি তোমার কাছে এতটাই গুরুত্বহীন।

- না,  তুমি আমার কাছে গুরুত্বহীন নয়।  তিনদিন আগে বাবা -মা দুজনেই মারা গিয়েছে।
- আমার কথা শুনে, আমার শ্বশুর বললেন" বাবা মা কারো চিরোদিন বেঁচে থাকে না! ওসব ভেবে মন খারাপ করো না।

- কথা কিছু বললো না।  চুপ-চাপ ড্রয়িং রুমে চলে গেল।

- রাতে শুয়ে আছি,  হঠাৎ কথার গলায় একটা হিরার নিকলেস দেখলাম!

- এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?

- তোমার গলায় নিকলেস টা খুব সুন্দর!

-ওহ্ আচ্ছা! জানো এটা কে দিয়েছে? এটা সজিব দিয়েছে।  তোমার কাছে মূল্যহীন থাকতে পারি। কিন্তু সজিবের কাছে নয়।

- তুমি তো জানো আমার বাবা -মা মারা গিয়েছে!

- ভালোই হয়েছে, এখন আর ভয় পাইতে হবে না।  সম্মান বেঁচে গেছে।

- কথার দিকে এক নজর তাকালাম।  এটা সেই কথা যাকে আমি ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম।

- হঠাৎ কথার ফোনে কে যেন ফোন করলো।  কিছু আপত্তিজনক কথাও শুনলাম।  যা স্বামী স্ত্রীর মাঝে অনেকটা হয়।

- আমি উঠে কথার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে দেখি সজিব নামে নাম্বার থেকে কল এসেছে। ফোনের ওপাশ থেকে বলছে,  একটা পাপ্পি দেই তোকে,  অনেকদিন দেওয়া হয় না। কাল হোটেলে মিট করবি? আমি কথাগুলো শুনে ফোনটা ভেঙে ফেলি।

- তোর এতো বড় সাহস আমার হাত থেকে ফোন নিয়ে ভেঙে ফেললি।  হ্যাঁ ভেঙে ফেলেছি।  তুমি ভুলে যেয়ো না তুমি আমার স্ত্রী।

- তুই কি জানিস সজিবের সাথে আমার বিয়ে ঠিক ছিল।  তার বাবার জন্য ভেঙে যায়।  এখন আঙ্কেল ভুল বুঝতে পেয়পেয়েছে।  আমি আর সজিব ঠিক করেছি বিয়ে করবো।  তাই তুই আমাকে ডির্ভোস দিবি।

- আমি আগে হয়তো কথাটা শুনলে কষ্ট পেতাম।  কিন্তু আজ কোন কষ্ট পাচ্ছি না।  কারণ আমাকে যারা ভালোবাসতো তারাই তো চলে গিয়েছে।

.
আমি ডির্ভোসের এপ্লাই করে, বাবা -মায়ের বাড়িতে এসে পড়ি।  প্রতিরাত বাবা-মায়ের কবরের পাশে বসে ছোট্ট বাচ্চার মতো কাঁদি।

- এদিকে প্রায় ছয়মাস পড়ে কথার সাথে ডির্ভোস হয়ে যায়।

- কয়েকদিন পর রাতে মা -বাবার কবরের পাশে  যখন কান্না করি তখন মাথাটা প্রচন্ড ব্যথা করে।  চোখ গুলো বন্ধ হয়ে আসে।  তারপর যখন চোখ খুলি তখন নিজেকে হাসপাতালে দেখতে পায়।  পরে আমার সবচেয়ে ক্লোজ ফ্রেন্ড নাজমুল বলে আমি নাকি,  কবরস্তানে সেন্সলেন্স হয়ে পড়েছিলাম। তারপর সে হসপিটালে নিয়ে আসে।

- পরের দিন ডাক্তার মাথার সিটিস্ক্যান করে রির্পোট দেয় আমার নাকি ব্রেন টিউমার।  বড়জোর মাসখানেক বাঁচবো।  রির্পোটটা দেখে নিজের অজান্তেই হেসে দিলাম!

- চোখ বন্ধ করে মা-বাবাকে ডেকে বললাম।  মা তোমাদের বুকে আসছি, আমায় বুকে নিবে না।

- হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুয়ে যখন মৃত্যুর যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলাম তখন খবর পায় কথা আর সজিব বিয়ে করেছে।

- মনে মনে নিজেকে খুব অভাগা মনে হচ্ছে মা বাবাকে রেখে আমি মরিচীকার পিছনে ছুটেছিলাম। আজ মা-বাবার স্নেহ মমতা, ভালবাসা গুলো উঁকি দিচ্ছে।

- আমি নাকি তিনদিন সেন্সলেন্স ছিলাম।  এদিকে মাথায় খুব পেইন করছে।  মনে হচ্ছে আমার সময় শেষ।  মা-বাবাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।  তাদের চেহারাটা চোখের সামনে ভেসে উঠছে।  কাছেই ছিল উজ্জ্বল ভাই।  তাকে ডেকে বললাম " ভাইয়া আমি তো মরেই যাবো,  আমার মায়ের মতো অন্ধ কোন মায়ের জন্য চোখ দুটি দান করে দিয়ে যেতে চাই!  উজ্জ্বল ভাই ডাক্তারের সাথে কথা বলে সব ম্যানেজ করলো।

- সন্ধ্যা ছয়টা,  নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।  চোখ দুটি মেলতে পারছি না।  খুব কষ্ট হচ্ছে।  মৃত্যু যন্ত্রণা যে এতটা ভয়াবহ, আগে জানতাম না।  মনে হচ্ছে বুকের উপর কেউ পাথর চাপিয়ে দিয়েছে।  হঠাৎ নাজমুল দৌড়ে এসে বলল" দোস্ত তোর সাথে বেঈমানীর শাস্তি আল্লাহ্কে কথাকে দিয়েছে। কথার স্বামী মিঃসজিব ইল্যান্ড থেকে এইচআইভি ভাইরাস শরীরে বয়ে নিয়ে আসে।  আর এখন বিয়ের পর সে ভাইরাস কথায় শরীরেও প্রবেশ করেছে।  দেখছিস দোস্ত আল্লাহর বিচার বড় বিচার!  পাপের ফল ভোগ করতেই হলো।

"" আমি বালিশের নিচে থেকে কয়েক পৃষ্ঠায় একটা চিরকুট নাজমুলের হাতে দিয়ে,  হারিয়ে গেলাম কালের গর্ভে।

- এই দোস্ত কথা বল, কি হলো কথা বল।  ডাক্তার এসে দেখে বললো, সে আর ফিরবে না।

- নাজমুল চিরকুটটা বের করে পড়তে লাগল। টিরকুটের লেখাগুলো পড়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পাচ্ছে না নাজমুল।

চিঠির শেষ দু'টি লাইন ছিলো এমন " তোমরা কেউ, তাদের কষ্ট দিয়ো না,  যে দুজন মানুষ তোমাদের না দেখে ভালবাসে।  যাদের জন্য সুন্দর পৃথিবীর আলো দেখতে পারো।  পৃথিবীতে মা-বাবার ভালবাসায় নিঃস্বার্থ ভালবাসা।

পরিশেষে,  আমার নিথর দেহটা যেন বাবা -মার পাশেই জায়গা পায়!

ইতি,
 অভাগা এক সন্তান।
"

সমাপ্ত।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Your Ad Spot

Pages